ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মি.গ্রা ক্যাপসুল একটি পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক। এটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ শরীরে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি ও সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ হয়ে যায়।
তাই ব্যাকটেরিয়া জনিত সমস্যার কারণে এই ঔষধটি অনেকের জন্যই খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আজকের এই আলোচনায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এর কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, দাম কত সেসব সম্পর্কে। তাই, পুরো লেখাটিতে আমাদের সাথে থাকুন।
আরও পড়ুনঃ ডমপেরিডন ১০ এর কাজ কি?
ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এর কাজ কি?
ডক্সিসাইক্লিন এমন একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা শরীরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ করে। এটি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ যেমন শ্বাসতন্ত্র, ত্বক, মূত্রনালি বা যৌন সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও কিছু পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ নিরাময়েও এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যদি আপনি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মি.গ্রা ক্যাপসুল সেবন করতে পারেন। সঠিক নিয়মে গ্রহণ করলে এটি দ্রুত সংক্রমণ দূর করতে ও স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে।
এর মূল কাজ হলো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করা। এটি বিশেষভাবে স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস এবং নোকার্ডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০% থেকে ৯০% ব্যাকটেরিয়া ডক্সিসাইক্লিনের প্রতি সংবেদনশীল, যা একে বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ওষুধে পরিণত করেছে।
ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মি.গ্রা অ্যান্টিবায়োটিক হলেও এটি কিছু মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো জানতে হবে। নিচে ডক্সিসাইক্লিনের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলোঃ
- অনেক ক্ষেত্রে ডক্সিসাইক্লিন সেবনের পর অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এই অবস্থায় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
- ঔষধটি পাকস্থলীতে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।
- কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। এটি কখনও কখনও ওষুধজনিত অ্যালার্জি বা রক্তচাপের পরিবর্তনের ফলেও হতে পারে।
- ডক্সিসাইক্লিন কিছু মানুষের ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, বা লালচে দাগের মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
- অনেক সময় ওষুধটি সেবনের পর গলা বা বুকে জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে যদি খালি পেটে খাওয়া হয়।
- পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বা হালকা ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এটি সাধারণত অম্লতা বৃদ্ধির কারণে হয়।
ডক্সিসাইক্লিন ১০০ খাওয়ার নিয়ম কী?

12 বছরের কম বয়সী শিশুদের অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম ডোজ নিতে হবে। আপনি যদি দিনে একবার বা দু বার ঔষধটি গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই সারাদিনে সমানভাবে ডোজগুলি বের করার চেষ্টা করতে হবে। ঔষধটি খালি পেটে খাওয়াই ভালো। খাবারের প্রায় ১ ঘণ্টা আগে বা খাবারের ২ ঘণ্টা পরে সেবন করুন।
তবে যদি পেটে অস্বস্তি লাগে, তাহলে সামান্য খাবারের সাথে খেতে পারেন। ঔষধ খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকুন। সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে খাদ্যনালিতে জ্বালাপোড়া হতে পারে। উপসর্গ চলে গেলেও নির্ধারিত কোর্স শেষ না করে ওষুধ বন্ধ করবেন না, এতে সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে।
ডক্সিক্যাপ ১০০ এর দাম কত?
বাংলাদেশে ডক্সিক্যাপ ১০০ মি.গ্রা ট্যাবলেটের প্রতি পিসের দাম প্রায় ২ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ, আপনি যদি ১০০ পিস বা ২২০ পিসের প্যাকেট ক্রয় করেন, তাহলে মোট খরচ হবে প্রায় ২২০ টাকা। তবে আপনি যদি ওষুধটি পাইকারি দরে ক্রয় করেন, তাহলে কিছুটা কম মূল্যে এটি পেতে পারেন। অন্যদিকে, ডক্সিক্যাপ ৫০ মি.গ্রা ট্যাবলেটের প্রতি পিসের মূল্য প্রায় ১ টাকা ৪২ পয়সা। ৫০ ট্যাবলেটের একটি প্যাকেট কিনলে এর মোট দাম হবে প্রায় ৭১ টাকা। বাজারভেদে ও ফার্মেসি অনুসারে এই মূল্য সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
FAQs
ডক্সিসাইক্লিন খাওয়ার পর শুয়ে পড়া কেন উচিত নয়?
ডক্সিসাইক্লিন খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া একেবারেই উচিত নয়, কারণ এটি খাদ্যনালিতে জ্বালাপোড়া বা ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। ডক্সিসাইক্লিন ট্যাবলেটটি গলার ভেতর দিয়ে খাদ্যনালীতে নেমে পেটে যাওয়ার পথে কিছুটা সময় নেয়। যদি কেউ ঔষধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ে, তাহলে ট্যাবলেটটি খাদ্যনালীতে আটকে যেতে পারে এবং সেখানে জ্বালাভাব, ব্যথা, এমনকি আলসার পর্যন্ত হতে পারে।
ডক্সিসাইক্লিন ১০০ mg কীভাবে শরীরে কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে?
ডক্সিসাইক্লিন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও প্রজননকে রোধ করে কাজ করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার রিবোজোমের ৩০এস উপইউনিটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়। প্রোটিন তৈরি না হলে ব্যাকটেরিয়ার কোষ বৃদ্ধি ও বিভাজন করতে পারে না, ফলে নতুন কোষ গঠন ব্যর্থ হয়। এইভাবে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।
ডক্সিসাইক্লিন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে কি হতে পারে?
যদি আপনি ভুলবশত ডক্সিসাইক্লিনের অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করেন, তবে সাধারণত এটি তীব্র ক্ষতি সৃষ্টি করে না। তবুও, এমন পরিস্থিতিতে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে অবিলম্বে জানানো জরুরি। অতিরিক্ত ডোজ নিয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানিয়ে পরবর্তী সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা এড়ানো যায়।
ডক্সিসাইক্লিন দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে কি কোনো সমস্যা হতে পারে?
ডক্সিসাইক্লিন এর দীর্ঘমেয়াদী ডোজে লিভার বা কিডনিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ত্বক সূর্যের আলোতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করার কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক মাইক্রোফ্লোরার ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া অনেকদিন ধরে ডক্সিসাইক্লিন ব্যবহারে কিছু ব্যাকটেরিয়া ওষুধের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে।
ডক্সিসাইক্লিন কি টনসিলের জন্য?
ডক্সিসাইক্লিন সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং এটি টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহার হতে পারে। যদি টনসিলের সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে, ডক্সিসাইক্লিন ডাক্তারি নির্দেশ অনুযায়ী কার্যকর হতে পারে। তবে টনসিলাইটিস প্রায়শই ভাইরাসজনিত হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।