ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহারের পর যদি কোনো মাসে মাসিক নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে হয়, তখন অনেক নারী দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তাদের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার কতদিন পর মাসিক হয় বা ইমার্জেন্সি পিল খেলে কি বন্ধ্যাত্ব হয় কি না – এই অনিশ্চয়তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিভিন্ন কারণে কখনো মাসিক আগেভাগে শুরু হতে পারে, আবার কখনো দেরিতেও হতে পারে। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি পিল গ্রহণের পর অনেক নারী মনে করেন যে এই ওষুধ ব্যবহারের কারণেই মাসিকের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক, কারণ পিলটি শরীরের হরমোনে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, যা মাসিকের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ইমার্জেন্সি পিলের ব্র্যান্ড কোনটি ভালো?
ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার কতদিন পর মাসিক হয় ?
ইমার্জেন্সি পিল গ্রহণের পর শরীরে হরমোনের সাময়িক পরিবর্তনের কারণে কিছু নারীর মাসিক শুরু হতে ৫ থেকে ৭ দিন দেরি হতে দেখা যায়। ইমার্জেন্সি পিল বা অন্যান্য গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারের পর অধিকাংশ নারীর মাসিকের সময়সূচিতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে অল্প কিছু নারীর ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠানামার কারণে মাসিক দেরিতে শুরু হতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন সাধারণত স্বাভাবিক এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে যদি মাসিকের নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার ১০ দিনের মধ্যেও মাসিক না হয়, তাহলে অবশ্যই একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত। আর যদি ২০ থেকে ২৫ দিনের বেশি সময় পার হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া ইমার্জেন্সি পিল সেবনের পর হরমোনের প্রভাবে কিছু নারীর সাদাস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সাদাস্রাব কমানোর ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
ইমার্জেন্সি পিল খেলে কি বন্ধ্যাত্ব হয়?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তৃত গবেষণা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইমার্জেন্সি পিল বন্ধ্যাত্বের কারণ নয়। এটি এমন একটি হরমোনাল পদ্ধতি, যা মূলত ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুর নিঃসরণ সাময়িকভাবে বিলম্বিত করে বা ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর সংমিশ্রণ রোধ করে, যার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমানো হয়।
ইমার্জেন্সি পিল কখনোই স্থায়ী কোনো প্রজনন সমস্যা তৈরি করে না। পিলের কার্যকারিতা শেষ হলে শরীর নিজেই স্বাভাবিক হরমোনাল চক্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে, ফলে প্রজনন ক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। অর্থাৎ, কোনো নারী ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহার করার পরও ভবিষ্যতে সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম থাকেন।
ইমার্জেন্সি পিল কি মাসিক চক্র পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে?
ইমার্জেন্সি পিল মাসিক চক্রকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে না। তবে এটি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে সাময়িক প্রভাব ফেলে। পিল সেবনের পর মাসিক কিছুদিন আগে বা পরে শুরু হতে পারে, রক্তপাতের পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে, বা কিছু ক্ষেত্রে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। অধিকাংশ মহিলার ক্ষেত্রে পরবর্তী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যেই মাসিক চক্র তার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসে।
তাই, ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহারের ফলে হঠাৎ মাসিকের পরিবর্তন ঘটলেও তা স্থায়ী কোনো ক্ষতি করে না, এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রজনন সমস্যার কারণ হয় না। তবে মাসিক চক্র দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্বাভাবিক থাকলে অবশ্যই তা চিন্তার কারণ এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
একই মাসে একাধিকবার ইমার্জেন্সি পিল খেলে মাসিকের কী প্রভাব পড়ে?
একই মাসে একাধিকবার ইমার্জেন্সি পিল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি না করলেও, এটি আপনার মাসিক চক্র বা পিরিয়ডকে মারাত্মকভাবে ওলটপালট করে দিতে পারে। একই মাসিক চক্রে বারবার ইমার্জেন্সি পিল খেলে এর গর্ভনিরোধক ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি শরীরে হরমোনের একটি বড় পরিবর্তন আনে, যা বারবার সহ্য করা শরীরের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।
FAQs
ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার পর মাসিকের সময় কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে?
ইমার্জেন্সি পিল গ্রহণের পর অধিকাংশ নারীর মাসিক সাধারণত স্বাভাবিক সময়ের কাছাকাছি বা নির্ধারিত তারিখের ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই হয়ে থাকে। তবে এ পিলের প্রভাবে মাসিকের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। কারও ক্ষেত্রে মাসিক কয়েকদিন দেরিতে হতে পারে, আবার কারও এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় পর শুরু হতে পারে। এছাড়া পিল সেবনের পর কিছু নারীর হালকা রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত স্পটিং দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়।
যদি পিল খাওয়ার প্রায় ১০ দিনের মধ্যে মাসিক না হয় তাহলে কী করবেন?
ইমার্জেন্সি পিল গ্রহণের পর যদি আপনার মাসিক প্রত্যাশিত সময়ের তুলনায় বেশ দেরিতে হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে ইমার্জেন্সি পিল শতভাগ কার্যকর নয়, বিশেষ করে যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না খাওয়া হয়। পিল সেবনের ২-৩ সপ্তাহ পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে ফলাফল বেশি সঠিক হয়। এক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম প্রস্রাব দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাই সবচেয়ে ভালো। প্রথম প্রস্রাবে হরমোনের ঘনত্ব বেশি থাকায় ভুল ফল আসার সম্ভাবনা কমে।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও যদি মাসিক না হয় তাহলে কী করবেন?
যদি প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফল পজিটিভ আসে, অথবা নেগেটিভ হওয়ার পরও আপনার মাসিক শুরু না হয় এবং আপনি দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাহলে দেরি না করে একজন চিকিৎসক বা গাইনেকোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা আপনার অবস্থা বিস্তারিতভাবে যাচাই করে উপযুক্ত পরামর্শ দেবেন এবং প্রয়োজনে মাসিক দেরি হওয়ার অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও পরীক্ষা করে দেখবেন।
ইমার্জেন্সি পিল সেবনের পর মাসিকের সময়সূচীতে পরিবর্তন আসা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, ইমার্জেন্সি পিল গ্রহণের ফলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। এর কারণে মাসিকের সময়সূচিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়া, যেমন মাসিক দেরিতে হওয়া, আগে হওয়া বা রক্তপাতের ধরনে হালকা তারতম্য হওয়া এসব বিষয় অস্বাভাবিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বারবার ইমার্জেন্সি পিল খেলে কি মাসিক অনিয়মিত হয়?
হ্যাঁ, বারবার এই ধরনের পিল সেবন করলে মাসিক চক্রের স্বাভাবিকতা প্রভাবিত হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইমার্জেন্সি পিলকে কোনো নিয়মিত বা দৈনন্দিন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।