অনেকেই Xinc B এর কার্যকারিতা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নন। অথচ জিংক বি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে Xinc B এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই ট্যাবলেটে থাকা উপাদানগুলো শরীরের নানাবিধ সমস্যার উপশমে সহায়তা করে এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে ভিটামিনের অভাবজনিত নানা সমস্যা সমাধানে Xinc B বেশ কার্যকরী ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে যে Xinc b এর কাজ কি বা এটি কীভাবে খেতে হয়। আর সেসব ধারনা পরিস্কার করতেই আজকের এই লেখাটি।
আরও পড়ুনঃ Amilin 10 এর কাজ কি?
Xinc B কিসের ঔষধ?
জিংক বি এমন একটি ঔষধ যেটা সেবনের ফলে শরীরের নানা ধরনের সমস্যা কমে আসে। এটি একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করে, তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী করে। যাদের খাবারে অরুচি আছে, তারা জিংক বি গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া যাদের পেশী দুর্বল বা শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত ও শক্তিহীন লাগে, তাদের ক্ষেত্রে জিংক বি শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। সার্বিক দুর্বলতা দূর করতে এটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি যাদের দৃষ্টিশক্তি কম বা চোখের দুর্বলতা রয়েছে, নিয়মিত জিংক বি সেবনে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হতে পারে।
Xinc B এর কাজ কি?
জিঙ্ক ট্যাবলেট মানবদেহের নানা গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে এবং বিশেষ করে বেড়ে ওঠার বয়সে শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া জিঙ্কে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাগুণ রয়েছে, যা শরীরকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের ঘাটতি হলে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে, স্বাদ ও গন্ধ বোঝার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বিষণ্নতা, প্রজনন ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া, ডায়রিয়া, হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব এবং ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও জিঙ্কের অভাবে দেখা দিতে পারে।
জিংক বি ট্যাবলেট শরীরে জিংক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশে জিংক বি ট্যাবলেট বা সিরাপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এটি শুধু শিশুদের জন্য নয়, সব বয়সের মানুষই প্রয়োজন অনুযায়ী জিংক বি ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ গ্রহণ করতে পারেন।
Xinc B এর উপকারিতা কী?
জিংক বি ট্যাবলেট কেবল একটি খনিজ ও ভিটামিনের সম্পূরকই নয়, বরং এটি শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সেবনে এটি দেহকোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং শিশুদের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেসব শিশু দুর্বল স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভোগে, তাদের শারীরিক গঠন ও শক্তি বাড়াতে জিংক বি সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া জিংক বি ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে, ক্ষত দ্রুত সারাতে ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করে। এটি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করে, ফলে দেহ ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষিত থাকে। পানিশূন্যতা ও ডিহাইড্রেশন দূর করতে, ক্ষুধামান্দ্য ও অরুচি কমাতে এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থতা থেকে সেরে উঠতেও জিংক বি এর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না কোনোভাবেই।
মানসিক দিক থেকেও জিংক বি উপকারী। এটি মানসিক অলসতা দূর করতে সাহায্য করে এবং দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শর্করা ভাঙনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং চুল পড়া রোধে ভূমিকা রাখে। প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও জিংক বি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জনন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
Xinc B খাওয়ার কি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
হ্যাঁ, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এগুলো বেশিরভাগ সময়ই সাময়িক এবং গুরুতর নয়। নিচে উল্লেখিত প্রতিটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলোঃ
বমি বমি ভাব: জিংক বি ট্যাবলেট খাওয়ার পর কারও কারও হালকা বমি বমি ভাব হতে পারে। সাধারণত খালি পেটে ট্যাবলেট খেলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। খাবারের পর সেবন করলে এই উপসর্গ কমে যায়।
পাকস্থলীর সমস্যা: কিছু ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলী সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত সাময়িক হয়।
বমি: অতিরিক্ত মাত্রায় বা খালি পেটে জিংক বি গ্রহণ করলে বমি হতে পারে। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং সাধারণত ওষুধ বন্ধ বা সঠিক নিয়মে খেলে সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।
ডায়রিয়া: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিংক বি ট্যাবলেট অন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণত এটি হালকা মাত্রার হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে যায়।
Xinc B খাওয়ার নিয়ম কী?

সাধারণত দিনে দুই থেকে তিনবার জিংক বি ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। প্রতিবার এক থেকে দুইটি ট্যাবলেট গ্রহণ করা যথেষ্ট। সকালে, বিকেলে ও রাতে খাবারের পর ভরা পেটে সেবন করাই সবচেয়ে ভালো, কারণ খালি পেটে খেলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি হতে পারে। ইচ্ছামত বা অতিমাত্রায় সেবন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সিরাপ আকারে জিংক বি ব্যবহার করা হয়, যা তাদের জন্য বেশি উপযোগী।
Xinc B এর দাম কত?
Xinc B ৩০টি ট্যাবলেটের একটি প্যাকের দাম মাত্র ১০৫ টাকা। এটি বাংলাদেশের এস কে এফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানির একটি পরিচিত ও বিশ্বস্ত ওষুধ।
FAQs
Xinc B কি শরীরের ওজন বাড়ায়?
না, জিংক বি সরাসরি শরীরের ওজন বাড়ায় না। তবে এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, যার ফলে ক্ষুধা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। ক্ষুধা বাড়লে খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং নিয়মিতভাবে বেশি খাবার গ্রহণের কারণে কিছু মানুষের ওজন ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে হতে পারে। আসলে এখানে ওজন বাড়ার মূল কারণ জিংক বি নয়, বরং খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি ও পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা উন্নত হওয়া। বিশেষ করে যাদের আগে খাবারে অরুচি ছিল বা শরীর দুর্বল ছিল, তাদের ক্ষেত্রে জিংক বি গ্রহণের পর শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর আগের তুলনায় সুস্থ অনুভূত হয়।
Xinc B কি ক্ষুধা বাড়ায়?
হ্যাঁ, xinc B অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুধা বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যাদের খাবারের প্রতি অরুচি রয়েছে, কম খেতে ইচ্ছা করে বা সহজে তৃপ্ত হয়ে যান, তাদের জন্য xinc B উপকারী হতে পারে। এটি শরীরের হজম ও বিপাকক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে, যার ফলে ধীরে ধীরে খাবারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ও সঠিক মাত্রায় সেবন করলে খাবারের স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতাও কিছুটা উন্নত হতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
Xinc B কি শিশুরা খেতে পারে?
হ্যাঁ, শিশুরা Xinc B খেতে পারে। আসলে এটি শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং রুচি বৃদ্ধির জন্য ডাক্তাররা প্রায়ই দিয়ে থাকেন। এটি মূলত জিংক এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি সংমিশ্রণ। তাই কখনও কখনও চিকিৎসক এটি শিশুদের জন্য prescribed করে থাকেন।