আপনারা কি জানেন ডমপেরিডন ১০ এর কাজ কি? Domperidone মূলত বিভিন্ন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য সেবন করা হয়। এটি বমি বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই ওষুধ হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে, পাকস্থলীর খালি হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করে এবং অন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। এই ঔষধটি সম্পর্কে আপনাদেরকে আরও অনেক কিছু বলার আছে যেগুলো আমরা এই আর্টিকেল এ জানাতে চলেছি। এই ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই পুরো লেখাটি পড়তে হবে।
মনে রাখতে হবে, সব রোগের সমাধান ওষুধে নয়; কিছু রোগের নিরাময় সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে বা ঘরোয়া পদ্ধতিতেও। তাই ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
আরও পড়ুনঃ Rupa 10 mg এর কাজ কি?
ডমপেরিডন ১০ এর কাজ কি?
ডমপেরিডন ১০ সেবনের ফলে শুধু বমি বমি ভাবই দূর হয় না, বরং যাদের পেটের উপরের অংশে ভারীভাব বা ফাঁপা অনুভূতি থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকরভাবে কাজ করে। এছাড়া যাদের খাবার খাওয়ার পর পেটে ভার লাগা, অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা অনুভূত হয়, তারা নির্দিষ্ট নিয়মে এই ঔষধ গ্রহণ করলে সেই উপসর্গগুলো অনেকটাই কমে আসে।
অনেক সময় হজমের সমস্যা বা বদহজমের কারণে পেটে গ্যাস, অস্বস্তি বা ব্যথা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রেও এই ঔষধটি দারুণভাবে উপকার দেয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
ডমপেরিডন ১০ খাওয়ার নিয়ম কী?
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ডমপেরিড ঔষধটি খাবার খাওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সেবন করলে সর্বাধিক কার্যকারিতা পাওয়া যায়। সাধারণত যাদের ঘন ঘন বমি বমি ভাব হয় বা খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ মাত্রা হলো প্রতি ২০ মিলিগ্রাম করে প্রতি ৮ ঘণ্টা অন্তর সেবন করা।
যাদের খাওয়ার পর খাবার উঠে আসে, বুক জ্বালাপোড়া হয় বা গিলতে অসুবিধা হয়, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অন্তর এই ঔষধ সেবন করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে ডমপেরিডন খেলে হজমে সহায়তা করে এবং মুখে খাবারের প্রতি আগ্রহ বা রুচি বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, এই ঔষধটি শুধু বমি বমি ভাব দূর করে না, বরং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং শরীরকে স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণে সহায়তা করে।
Domperidone এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ
Domperidone সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে হালকা বা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। নিচে Domperidone এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেয়া হলোঃ
- অনেকেই Domperidone সেবনের পর হালকা মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন।
- মুখে শুষ্কতা বা লালা কমে যেতে পারে কোন কোন ক্ষেত্রে।
- ওষুধের প্রভাবে হালকা মাথা ঘোরা হতে পারে।
- মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
- অনেক সময় ওষুধটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
- শরীরে হঠাৎ গরম ভাব বা ঘাম হওয়া অনুভূত হতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে পেট ব্যথা বা পায়ে টান ধরা দেখা যায়।
ডমপেরিডন কাদের এড়ানো উচিত?

ডমপেরিডন এমন একটি ওষুধ যা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন রয়েছে, রক্তে পটাসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক, তাদের এই ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এছাড়া যাদের গুরুতর লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও এই ওষুধটি নিরাপদ নয়।
যদি কারও হালকা মাত্রার লিভার বা কিডনি সমস্যা থাকে, তবে চিকিৎসক প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ কমিয়ে দিতে পারেন। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক ও বড় শিশুদের দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিগ্রামের বেশি ডমপেরিডন সেবন করা উচিত নয়, এবং চিকিৎসা এক সপ্তাহের বেশি দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়।
ডমপেরিডন ১০ এর দাম কত?
ডমপেরিডন ওষুধটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের। প্রতি ট্যাবলেটের দাম প্রায় ২ টাকা, এবং এক পাতায় ১০টি ট্যাবলেট থাকলে তার মোট মূল্য হয় ২০ টাকা। এছাড়াও, ডমপেরিডন সিরাপও সহজলভ্য, সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এই কারণে এটি অনেকেই সহজে কিনতে ও ব্যবহার করতে পারেন। আপনি আপনার এলাকার যেকোনো ফার্মেসিতেই এই ঔষধটি খুঁজে পাবেন।
FAQs
ডমপেরিডন কি শিশুদের জন্য কার্যকরী?
ডমপেরিডন শিশুর পেটের গ্যাস্ট্রিক মোটিলিটি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমে যায়। তবে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঔষধ ব্যবহার করা নিরাপদ বলে মনে করা হয় না। তাই এই ঔষধটি খাওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডমপেরিডন খাওয়ার পর কত সময়ের মধ্যে এর প্রভাব দেখা যায়?
সাধারণত ঔষধটি খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি খালি পেটে খাওয়া হয়, তাহলে এটি আরও দ্রুত কাজ করতে পারে। খাবারের আগে ১৫–২০ মিনিট আগে এই ঔষধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ তখন এটি পাকস্থলীতে খাবারের সঙ্গে মিশে কাজ শুরু করে। যদি ওষুধ খাওয়ার পর ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেও উপসর্গের উন্নতি না দেখা যায় বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে ডমপেরিডন ব্যবহারে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন?
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ডমপেরিডন দেওয়া হয় না। ডমপেরিডন খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারকে জানাতে হবে শিশুর বর্তমানে যেসব ঔষধ গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনিতেও শিশুকে কোন ঔষধই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাওয়ানো উচিত নয়।
ডমপেরিডন এর একটি ডোজ মিস করলে কি করতে হবে?
মিস হওয়া ডোজটি মনে পড়লে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাওয়া উচিত। যদি পরবর্তী ডোজের সময় খুব কাছাকাছি থাকে, তবে মিস হওয়া ডোজটি এড়িয়ে পরবর্তী নিয়মিত ডোজ নেওয়া ভালো। দুটি ডোজ একসাথে নেওয়া উচিত নয়।
ডমপেরিডন সিরাপ এর কাজ কি?
সিরাপের মাধ্যমে ডমপেরিডন শিশু ও যাদের ট্যাবলেট খাওয়া কঠিন, তাদের জন্য সহজে সেবনযোগ্য। শিশুরা ট্যাবলেট গিলতে পারেনা, তাই তাঁদের জন্যই এই সিরাপ। সিরাপটি খুব সহজেই শিশুরা খেতে পারে কারণ শিশুদের খাওয়ার উপযোগী করেই ঔষধটি বানানো হয়েছে। এটির স্বাদও বেশ ভালো।